অন্যান্যঃ

ডাউন সিন্ড্রোম কি? ডাউন সিন্ড্রোম একটি জেনেটিক ডিসর্ডার, ক্রমোজমে অস্বাভাবিক সেল ডিভিশন এর জন্য এই সমস্যা হয়ে থাকে।

সাধারণত আমাদের প্রতিটি মানুষের ২৩ জোড়া ক্রমোজম থাকে। এই ২৩ জোড়ার ১ টি আসে মা এর কাছ থেকে একটি আসে বাবার কাছ থেকে।
কখনো কখনো ২১ নাম্বার ক্রোমোজমে অতিরিক্ত ১টি ক্রমোজম পুরো বা আংশিকভাবে পরিবর্তন হল ডাউন সিনড্রোম সন্তান জন্ম হয়। মানে ২১ নাম্বারে ২ টি না থেকে ৩ টি ক্রমোজম থাকে।

ডাউন সিনড্রোম হয়েছে বুঝার নিয়মঃ

সাধারণত ডাউন সিন্ড্রোম জন্মের আগে থেকেই মানে পেটে থাকা অবস্থায় বুঝা যায় এনোমালি টেস্ট এর মাধ্যমে।
জন্মের পর কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখে বুঝা যায় শিশুটি ডাউন সিনড্রোম বেবি। যেমনঃ
১. মুখের সাইজ চ্যাপ্টা হয়
২. মাথা তুলনামূলক ছোট হয়
৩. ঘাড় খাটো হয়
৪. মুখ হা করে বেশিরভাগ সময় জিহ্বা বের করে রাখে
৫. চোখের পাতা নিচের দিকে বেশি নামানো হয় মানে অনেকটা চাইনিজদের মত হয় যা মঙোলিয়ান ফেইস ও বলা হয় ।
৬. কান ছোট হয় বা স্বাভাবিক এর থেকে একটু ভিন্ন হয়।
৭. হাত, পা বং আঙুল স্বাভাবিক এর থেকে ছোট হয়।
৮. হাতের তালুতে একটাই রেখা থাকে।
৯. মাংসপেশি নরম তুলতুল হয়।
১০. উচ্চাতা অনেক ছোট হয় বামনদের মত অনেকটা।

জন্মের পর সমস্যা!

১. বুদ্ধিগত সমস্যা হয় ও ভুলে যায়।
২. কথা বলতে ও বুঝতে দেরী হয় এবং বয়স অনুপাতে সঠিক বিকাশ হয় না।
৩. জন্মগত হার্ট এর সমস্যা থাকে।
৪. খাবার হজমে সমস্যা থাকে।
৫. যে কোন ধরনের ইনফেকশন বেশি হয়, যেমন নিউমোনিয়া, কারো কারো ক্যান্সার হয়।
৬. নাক ডাকা সমস্যা থাকে।
৭. অনেক মোটা হয়ে যায় পরবর্তীতে ওজন বাড়তে থাকে।
৮. মেরুদণ্ড বা স্পাইন এ সমস্যা হয়।
৯. এছাড়াও দাতের ইনফেকশন, কানের ইনফেকশন, চোখের ইনফেকশন থেকে থাকে।

ডাউন সিন্ড্রোম এর চিকিৎসাঃ

সমস্যা অনুযায়ী সব ধরনের বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।

* স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট এর শরণাপন্ন হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। তাহলে সঠিক সময়ে সঠিক ভাষা এবং কথা বলার বিকাশ হওয়া সম্ভব সমস্যার ধরন অনুযায়ী।

* এই ধরনের শিশু কত বছর বেচে থাকে?

সম্প্রতি এসব শিশুদের আয়ু নাটকীয় ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। এই ধরনের মানুষ ৬০ বছর পর্যন্ত বেচে থাকে তাদের শারিরীক সক্ষমতার এর উপর নির্ভর করে।

ডাউন সিন্ড্রোম এর লক্ষনঃ

বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে এই সমস্যা হওয়ার চান্স অনেক বেশি। সাধারণত ৩৫ বছরের পরে সন্তানধারণ করলে ডাউন সিন্ড্রোম হওয়ার রিস্ক বেড়ে যায়। কারন এই সময়ই ক্রোমোজমের অপরিকল্পিত বিভাজন হয়।
বাবা বা মা কেও যদি ক্যারিয়ার হয় তাহলে হতে পারে।
একটি সন্তান ডাউন সিন্ড্রোম হলে পরের সন্তানের ঝুকি বেড়ে যায়।

ডাউন সিন্ড্রোম এর প্রতিরোধঃ

ডাউন সিন্ড্রোম প্রতিরোধ করার কোন উপায় নেই। যেহেতু এটা জেনেটিক সমস্যা তাই শিশু জন্মের আগেই বুঝতে পারবেন শিশুটি ডাউন সিনড্রোম হচ্ছে কিনা।

যদি কারো একটি সন্তান ডাউন সিন্ড্রোম হয় তবে একজন জেনেটিক বিশেষজ্ঞ এর সাথে কন্সালট করবেন পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে।

এটা সাধারণত ইনহেরিট্যান্ট বা উত্তরাধিকার সুত্রে কেউভপায় না। কিন্তু বাবা বা মা কেও যদি ক্যারিয়ার হন তবে এই সমস্যা হওয়ার
চান্স ১০০ গুন বেড়ে যায়।