একজন মানুষের কথা বলা শিখতে লাগে ২ বছর। কিন্তু কি বলা উচিৎ তা শিখতে লাগে সারা জীবন। রাসূল (সাঃ) বলেন হয় ভালো কথা বলুন নচেৎ চুপ থাকুন।

সবকিছু জানা আপনার জন্য জরুরি না। তবে যে বিষয়ে আপনি কথা বলবেন সেই জ্ঞান থাকাটা আপনার জন্য জরুরী।

কথা বলার নীতিঃ
১. কথা বলার পূর্বে সালাম দেয়া। (সূরা নূর : ৬১) আমাদের সকলের উচিত কারো সাথে দেখা হলে সালাম দিয়ে কথা বলা হোক না সে আমার ছোট কিংবা বড়।

২. সতর্কতার সাথে কথা বলা।(সূরা ক্বফঃ১৮)
আমাদের সকলের উচিৎ কথা বলার সময় কখন কি বলছি কাকে বলছি সেদিক সতর্ক থাকা। কেননা প্রতিটি কথা আল্লাহ শুনতে পায়।

৩. সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা।(সূরা বাক্বারাহ : ৮৩; বুখারী/১৪১৩)

আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ সবার সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলা। আমাদের কথায় যেনো কেউ কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ রাখা।

৪.অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা। (সূরা নূর : ৩; বুখারী/৩৫৫৯)

কথা এমন ভাবে বলা উচিত যেনো অপরজনের কাছে কথা গুলা শুনতে বিরক্ত না লাগে। খারাপ শব্দ ব্যবহার করা যাবেনা।

৫.কন্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা। (সূরা লুকমান : ১৯, সূরা হুজুরাত : ২ – ৩)

কারো সাথে কথা বলার সময় অনেক জোরে কথা বলা উচিত নয়। এমনভাবে কথা বলতে হবে যেটা বেশি জোরে নয় বেশি আস্তে ও নয় শ্রোতা যেনো ভালোভাবে শুনতে পারে এরকম ভাবে।

৬.বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলা। (সূরা নামল : ১২৫)

অনেক সময় দেখা যায় অনেকে কথা বলতে গেলে আন্দাজে কি বলে না বলে সে নিজেও বুঝতে পারেনা। এভাবে কথা না বলে বুদ্ধি খাটিয়ে সুন্দর ভাবে কথা বলুন।

৬. সঠিক কথা বলা ও পাপ মোচনের দুয়ার উন্মুক্ত করা। (সূরা আহযাব : ৭১ – ৭২)

যা বলবো সবসময় সঠিক এবং সত্যি কথা বলবো। মিথ্যা কখনাও বলবোনা

৭. গাধার মত কর্কশ স্বরে কথা না বলা। (সূরা লুকমান : ১৯; তিরমিযী/৪৮৫৯)

অনেক কেই দেখা যায় কথা বলার সময় অনেক কর্কশ ভাষায় কথা বলে। মা বাবা ভাই বোন অন্য কারো সাথেই কর্কশ ভাষায় কথা বলা আল্লাহ পছন্দ করেন না।

৮. উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করবেন।(সূরা হা- মীম সাজদাহ : ৩৪)

৯. উত্তম কথায় দাওয়াত দেয়া। (সূরা হা- মীম সাজদাহ : ৩৪)
ঈমানদারদের কথা ও কাজ এক হওয়া উচিৎ। (সূরা ছফ : ২)

১০.পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করবেন। (সূরা আরাফ : ১৯৯)

১১. মেয়েদের পর-পুরুষের সাথে আকর্ষণীয় ও কোমল ভাষায় কথা না বলা। (সূরা আহযাব :৩২)

ছেলেদের পর-নারীর সাথে আকর্ষণীয় ও কোমল ভাষায় কথা না বলাই ভালো

১২. মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমত এড়িয়ে চলুন। (সূরা ফুরকান : ৬৩)